উত্তরপত্র মূল্যায়ন

কোনো পরীক্ষা সঠিক ও সুন্দরভাবে সম্পন্ন করা যতটা গুরুত্বপূর্ণ, ঠিক ততটাই গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা-পরবর্তী উত্তরপত্র মূল্যায়নকাল। কিন্তু দেখা যায়, শিক্ষকদের খেয়ালখুশিতে নম্বর দেওয়ার কারণে উত্তরপত্রের যথাযথ মূল্যায়ন হয় না। মাঝেমধ্যে নানা অবহেলায় ঘটে অমূল্যায়ন, যা সত্যি দুঃখজনক।


সমাপনী পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হওয়ার পর চলবে উত্তরপত্র মূল্যায়নের কাজ। কিন্তু দেখা যায়, একটি নির্দিষ্ট জায়গায় তিন-চার দিন একটি নির্দিষ্ট সময় ধরে সব শিক্ষক একত্রে বসে উত্তরপত্র মূল্যায়নের কাজ করেন। এই দ্রুততার ফলে পর্যাপ্ত সময় যেমন পাওয়া যায় না, তেমনি উত্তরপত্রগুলো ১০০ ভাগ নির্ভুলভাবে মূল্যায়ন সম্ভব হয় বলে মনে হয় না। প্রয়োজন উত্তরপত্র মূল্যায়নের জন্য পর্যাপ্ত সময় বেঁধে দেওয়া এবং সেই সঙ্গে জেএসসি কিংবা এসএসসি পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়নের মতো কাজটি প্রত্যেক শিক্ষক বাড়িতে বসে করলে উত্তর হবে সঠিক। আশা করি কর্তৃপক্ষ ভেবে দেখবে।


এ ক্ষেত্রে শিক্ষকদেরও কিছু করণীয় আছে। যেমন


প্রথমত, এক বসায় নয়-দশটির বেশি খাতা মূল্যায়ন না করা।


দ্বিতীয়ত, উত্তরপত্র দেখাকালে অন্য কোনো বিষয়ে মনোযোগ না দেওয়া।


তৃতীয়ত, নেপ কর্তৃক সরবরাহকৃত বিষয়ভিত্তিক মূল্যায়ন নিদের্শিকায় প্রতিটি অভীক্ষার জন্য যে নির্দেশনা দেওয়া থাকে, তা অনুসরণ করা।


চতুর্থত, উত্তরপত্র মূল্যায়ন করার সময় ধৈর্যের পরিচয় দেওয়া।


পঞ্চমত, উত্তরপত্রগুলো সযত্নে রাখা, যেখানে-সেখানে না রেখে।


এজন্য প্রয়োজন মূল্যায়নের ক্ষেত্রে শিক্ষকদের সদিচ্ছা, মনোভাব ও আন্তরিকতার প্রদর্শন।


(সংক্ষেপিত)

সঞ্জয় কুমার ভৌমিক

সহকারী শিক্ষক, আলীশারকুল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, শ্রীমঙ্গল।


তথ্য-সূত্রঃ

দৈনিক প্রথম আলো

০৮ নভেম্বর ২০১৩

লিংক

6 views0 comments
Theme Song_ISC
00:00 / 03:15